কমপ্রিহেনসিভ বীমা করা হলে মালিক ও বীমা কোম্পানি উভয়েই লাভবান হবেন; (বিআইএ)।কমপ্রিহেনসিভ বীমা করা হলে মালিক ও বীমা কোম্পানি উভয়েই লাভবান হবেন; (বিআইএ)। – দৈনিক গণ আওযাজ
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০১:২৫ অপরাহ্ন

কমপ্রিহেনসিভ বীমা করা হলে মালিক ও বীমা কোম্পানি উভয়েই লাভবান হবেন; (বিআইএ)।

নিজস্ব প্রতিবেদক/৩৬বার পড়া হয়েছে
আপডেট :বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)-এর সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেছেন, কমপ্রিহেনসিভ বীমা করা হলে মালিক ও বীমা কোম্পানি উভয়েই লাভবান হবেন। বর্তমানে এই পলিসি মালিকরা করছেন আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে।

তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলছেন, এতদিন দুর্ঘটনার শিকার মানুষজনের জন্য ক্ষতিপূরণের একটি ব্যবস্থা ছিল, মানুষের সেই জায়গাটা বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু নতুন আইনে সেটা তো আর থাকছে না।

তিনি পরামর্শ দেন, শুধু তহবিল নয়, যানবাহনের মালিকরাও যাতে ক্ষতির শিকার যাত্রী বা সাধারণ মানুষকে একটি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হন, সেটা আইনে থাকা উচিত। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বাস্তবিক অর্থে এই মুহূর্তে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি তহবিল গঠন করার কথা বলা হয়েছে। সেই তহবিল থেকে দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা আর আহতদের জন্য তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলছেন, আইনটি করার পর দুই বছর পার হয়ে গেলেও এখনো ওই তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে কোনো নীতিমালা তৈরি করা হয়নি। তহবিল পরিচালনায় সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মালিক-শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা। সেটাও গঠন করা হয়নি। সেই কমিটিতে যাত্রী বা সাধারণ মানুষের কোনো প্রতিনিধিকেও রাখা হয়নি।

এর ফলে এই তহবিল আসলে দুর্ঘটনার শিকার মানুষের কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

তবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. দলিল উদ্দিন জানিয়েছেন, যানবাহনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কীভাবে কী করা যায়, সেটা নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা চলছে।

তবে প্রথম পক্ষের বীমা করা হলে গাড়ি চুরি বা ছিনতাই হলে, ভেঙে গেলে বা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। শর্তে থাকলে চালক ও যাত্রীর শারীরিক ক্ষতির জন্যও বীমার অর্থ পাওয়া যায়।

কী আছে আইডিআরএ প্রজ্ঞাপনে : সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬০-এর উপধারা ((১) ও (২)-এ বলা হয়েছে- যাত্রী ও মোটরযানের বীমা (১), কোন মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করিলে তাহার মালিকানাধীন যে কোনো মোটরযানের জন্য যে সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য নির্দিষ্টকৃত তাহাদের জীবন ও সম্পদের বীমা করিতে পারিবে।

(২), মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠান উহার অধীন পরিচালিত মোটরযানের জন্য যথানিয়মে বীমা করিবেন এবং মোটরযানের ক্ষতি বা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বীমার আওতাভুক্ত থাকিবে এবং বীমাকারী কর্তৃক উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাইবার অধিকারী হইবেন। এই কারণে তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি বীমা বাতিল করা হচ্ছে।

বীমা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সড়ক আইন হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স করার নিয়ম বাতিল করার নির্দেশ দেন। কারণ আইনি কারণে এটা করা হলেও বাস্তবে তেমন একটা কাজে আসে না।

তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি এবং বীমার সুবিধা-অসুবিধা কী : কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে বাংলাদেশে তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি বীমা করা হলেও সেখানে ক্ষতিপূরণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ২০ হাজার টাকা। কিন্তু বীমা করা হলেও এ ধরনের ইন্স্যুরেন্সের দাবি করার হার অনেক কম।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালে দেশজুড়ে ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে মোট ৭ হাজার ২২১ জন। আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৪৬৬ জন।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৭ হাজার ৩৯৭ জন। আর আহতের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ১৯৩ জন। কিন্তু এদের কেউই বীমা বাবদ কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

ডিজিএ/এমডিজেএম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর