বাঙালীর ইতিহাসে আরেকটি বেদনা বিধুর দিন আজ!বাঙালীর ইতিহাসে আরেকটি বেদনা বিধুর দিন আজ! – দৈনিক গণ আওযাজ
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

বাঙালীর ইতিহাসে আরেকটি বেদনা বিধুর দিন আজ!

গণ আওয়াজ ডেস্ক/৩৮বার পড়া হয়েছে
আপডেট :মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

বাঙালীর ইতিহাসে আরেকটি বেদনা বিধুর দিন ৩রা নভেম্বর আজ। ১৯৭৫ সালের কালো এই দিনে কারাগারের নির্জন প্রকষ্ঠে ঘাতকেরা হত্যা করে চার জাতীয় নেতা তাজ উদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান কে।

ঐদিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু বলেন, সে বছর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্য , শুধু একটি পরিবারকে হত্যা করা ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল মুক্তি যুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করা। জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে তা প্রমান করেছে ঘাতকরা।

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে জাতীয় চার নেতা নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনকের ঘনিষ্ট এই সহচরদের নেতৃত্বেই  স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই এই চার জাতীয় নেতাকে জেলে ঢুকায় ঘাতকরা। আর মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে কারাগারে ভেতরে ঢুকে নির্মম ভাবে হত্যা করে তাদের। কারাগারের নিরাপত্তা হেফজতে রাজনৈতিক বন্দীদের এভাবে হত্যা করার কলঙ্কজনক নজির পৃথিবীতে বিরল।

আওয়মী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু জানান, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর অনেকেই মনে করেছিল এটা একটি পারিবারক হত্যাকাণ্ড। কিন্তু যখন জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করা হয় তখন সবাই বুঝতে পারে এটা কোন পারিবারিক বা দলীয় হত্যাকাণ্ড না। এটি স্বাধীনতাকে মুছে দিতে হত্যা।

৩রা নভেম্বর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চালানো নৃশংসতার বর্ণনা পাওয়া যায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই নেতার বক্তব্যে। তিনি বলেন, রাতে হঠাৎ ব্রাশ ফায়ারের শব্দ শুনতে পেলাম। প্রথমবার ব্রাশফায়ার করে যাওয়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে আবারো ঝাঁঝড়া করে দেয়া হয় এই জাতীয় নেতাদের।

নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় নেতাদের পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে শিকার হয়েছের রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের। সৈয়দ নুজরুল ইসলামের মেয়ে জাকিয়া নূর লিপি জানান, এক নির্মম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের। এমকি স্কুলে ভর্তির বিষয়েও তাদের ছিল নিষেধাজ্ঞা।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শুরু করে হত্যাকাণ্ডের বিচার।দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে ঘটনার ৩৮ বছর পর বিচারের রায় পান নিহতের স্বজনরা। তিন জনের মৃত্যুদণ্ড, এবং১২ অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে আদালত। তবে, প্রধান আসামী রিসালদার মুসলে উদ্দীন সহ দণ্ডিত ১০ জন আসামী এখনও পলাতক।

ডিজিএ/এমডিজেএম

­­


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর