কেশবপুরে প্রতিবন্ধীদের সেবায় নিয়োজিত সুবোধ মিত্র ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনকেশবপুরে প্রতিবন্ধীদের সেবায় নিয়োজিত সুবোধ মিত্র ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন – দৈনিক গণ আওযাজ
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

কেশবপুরে প্রতিবন্ধীদের সেবায় নিয়োজিত সুবোধ মিত্র ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন

যশোর ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি/৭০বার পড়া হয়েছে
আপডেট :রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম বিশ্বস্ত সহচর, যশোর অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একজন সংগঠক ও সাবেক এম.এন.এ স্বর্গীয় সুবোধ মিত্র বাবুর স্মৃতী এবং আদর্শ কে চিরজীবী করে রাখার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য, স্বর্গীয় সুবোধ মিত্র বাবুর পুত্র জনাব এ্যাডঃ মিলন মিত্র উদ্যোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠিতা সম্পাদক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন “সুবোধ মিত্র ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন” যা ২৫/০১/২০১২ ইং তারিখে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত সমাজসেবা অধিদফতর থেকে নিবন্ধিত “সুবোধ মিত্র ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন” রেজিষ্ট্রেশন নং- ১৫০৭/১২। বর্তমানে ফাউন্ডেশন এর সভাপতি জে. বি. মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ মিলন মিত্র।

 

“প্রতিবন্ধীতা কোন প্রতিবন্ধকতা নয়”
এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৩ সালে যশোর জেলার কেশবপুরে “সুবোধ মিত্র ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন” এর উদ্যোগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা এর আলোকে স্থাপিত হয় “স্বর্গীয় সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়”। একটি ভাড়া ভবনে সল্প সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বিদ্যালয়টির। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন তৈরি করার জন্য জমি দান করেন স্বর্গীয় সুবোধ মিত্র বাবুর সহধর্মীনি অপর্না মিত্র।

২২-শে মে, ২০১৯ইং তারিখে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভূমীতে নুতন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তদকালীন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান এবং ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুরের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।
বিদ্যালয়ের নুতন ভবন টি ৩১-শে অক্টোবর,২০১৯ সালে উদ্বোধন করেন প্রয়াত সাংসদ ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা অনুসারে বিদ্যালয়ে আছেন ১৭জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ১জন কম্পিউটার অপারেটর, ১জন ফিজিওথেরাপিষ্ট, এবং ১৩জন অফিস স্টাফ।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বিদ্যালয় থেকে যানবাহন পাঠিয়ে দেওয়া হয় প্রতিটা শিক্ষার্থীর বাড়িতে, সেই জন্য ভাড়াই চালিত নসিমন এবং করিমন নামক গ্রাম্য পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে আপাতত চলছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চলাচল। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাঠ্য পুস্তকের পাশাপাশি চিত্ত্ব বিনোদন ও শরীর চর্চা, নাচ, গান, অংকন, আবৃতি ক্লাসের মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশের জন্য একটি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বিদ্যালয়ে।

এ্যাডঃ মিলন মিত্রের একান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় চলাকালীন মধ্যাহ্ন ভোজের ব্যাবস্থা চলমান। যে সকল বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের জন্য আছে ইশারা ভাষা শিক্ষার ব্যাবস্থা, এবং এই শিক্ষার মাধ্যমে তারা অতি সহজে নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করতে পারে।

এই ব্যাপারে “সুবোধ মিত্র ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন” (এস এম ডব্লিউ এফ) এর সভাপতি জে. বি. মুন্নার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক জনাব এ্যাডঃ মিলন মিত্র অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন “স্বর্গীয় সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়” এর সার্বিক উন্নয়নের জন্য, এবং তিনি তার প্রয়াত পিতার আদর্শ ধারণ করে কেশবপুরবাসীর পাশে আছেন এবং কেশবপুর উপজেলায় চারহাজারের অধিক প্রতিবন্ধী রয়েছে তাদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন সাথে সাথে কেশবপুর পৌরসভার সাধারণ মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। জে. বি. মুন্না আরও বলেন “স্বর্গীয় সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়” নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, বিশেষ করে- বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এর জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা এবং আবাসিক ব্যাবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, সাথে সাথে তিনি সমাজের বিবেকবান বিত্তবানদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন; সমাজকল্যানে এবং অসহায় প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকার জন্য এগিয়ে আসুন, এ্যাডঃ মিলন মিত্র যেমন তার পিতার আদর্শ ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা স্থাপনের অগ্রযাত্রায় নিজেকে নিয়জিত রেখেছেন তদ্রূপ সকল বিবেকবান বিত্তশালী বর্গকে এগিয়ে আসতে হবে দেশের উন্নয়ন এবং অসহায়দের সেবায়।

ডিজিএ/এমডিজেএম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর