ফরিদা বেগম হত্যায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।ফরিদা বেগম হত্যায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। – দৈনিক গণ আওযাজ
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন

ফরিদা বেগম হত্যায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

গণ আওয়াজ ডেস্ক/২৪২বার পড়া হয়েছে
আপডেট :রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০

শেরপুর জেলা শহরে ফরিদা বেগমকে (৬০) হত্যায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাঁদের মধ্যে দুজন গতকাল শনিবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

স্বীকারোক্তি দেওয়া দুজন হলেন জেলা শহরের গৌরীপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (২৬) ও লিটন বিশ্বাস (২৫)। তাঁরা পুলিশকে বলেছেন, মাদক কেনার টাকা সংগ্রহের জন্য তাঁরা ফরিদা বেগমের ঘরে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢোকেন। একপর্যায়ে ফরিদাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন গৌরীপুর এলাকার মো. শামীম (২৫) ও মো. আলাউদ্দিন (২৫)। তাঁরা পিবিআইয়ের হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২১ আগস্ট রাতে জেলা শহরের পশ্চিম গৌরীপুর এলাকায় বাসার শোয়ার ঘরে ফরিদা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ফরিদা এই এলাকার মৃত আবদুস সালামের স্ত্রী। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে জামালপুর পিবিআইয়ের সদস্যরা গত শুক্রবার রাতে জাহাঙ্গীর ও লিটনকে এবং শনিবার সকালে শামীম ও আলাউদ্দিনকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন। জাহাঙ্গীর ও লিটনকে দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা হোসেনের আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে তাঁরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও ফরিদা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর ও লিটন।

এস এম সালাহউদ্দিন, পুলিশ সুপার (এসপি), জামালপুর পিবিআই

জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম সালাহউদ্দিন বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও ফরিদা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর ও লিটন।

তদন্তকারীরা বলছেন, জাহাঙ্গীর, লিটন, শামীম ও আলাউদ্দিন চিহ্নিত মাদকসেবী। তাঁদের মধ্যে ফরিদার প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর জানতেন, ফরিদা বাসায় একা থাকেন। গত বছরের ২১ আগস্ট গৌরীপুর এলাকার একটি মাঠে বসে মাদক কেনার টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ফরিদার বাসায় ডাকাতির পরিকল্পনা করেন তাঁরা। রাত নয়টার দিকে ফরিদার বাসার গ্রিল কেটে তাঁরা ভেতরে ঢোকেন। এ সময় জাহাঙ্গীরকে চিনে ফেলেন ফরিদা। একপর্যায়ে অন্যদের সহযোগিতায় লিটন হাতে থাকা লোহার তৈরি ধারালো যন্ত্র দিয়ে গলা কেটে ফরিদাকে হত্যা করেন। তাঁরা ঘরের জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত যন্ত্রটি শৌচাগারে ফেলে পালিয়ে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদার নাতি শিহাব শহরের তিনআনী বাজার এলাকার টিভিএস শোরুমে কাজ শেষে বাসায় ফেরেন। শিহাব ডাকাডাকি করলেও ফরিদা ঘরের দরজা না খোলায় তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। শিহাব দাদি ফরিদার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। সংবাদ পেয়ে সদর থানার পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. হারুন অর রশীদ বলেন, এ ঘটনায় ফরিদার ছেলে মো. শামীম খন্দকার পরদিন ২২ আগস্ট সদর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়।

 

 

বাংলাদেশ সময়ঃ ১২ঃ২২ পি.এম. আগস্ট ৩০,২০২০


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর