জয়পুর হাটে এক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষনের অভিযোগজয়পুর হাটে এক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষনের অভিযোগ – দৈনিক গণ আওযাজ
শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

জয়পুর হাটে এক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষনের অভিযোগ

গণ আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক/৯২বার পড়া হয়েছে
আপডেট :মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

 জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামে একটা মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বাজে কাজের সাথে যুক্ত ছিল, একই গ্রামের দুই ব্যক্তি দুখু মিয়া ও রয়েল। বর্তমানে ওই নারী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

গ্রামের প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী নারী ও তার মাকে আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিলেও পরে একটি মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তায় থানায় মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন মানবাধিকার কর্মী, স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় দেড় বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে যায় তার।

এরপর থেকেই সরকারের দেওয়া টিনশেডের একটি পাকা বাড়িতে বসবাস করতেন ওই নারী ও তার মা। প্রতিদিন মেয়েকে বাসায় রেখে মা ঝিয়ের কাজ করতে যেতেন বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে।

এ সুযোগে একই গ্রামের দুখু মিয়া ও রয়েল নামে দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে গিয়ে পালা ক্রমে ধর্ষণ করতো মেয়েটিকে।

সম্প্রতি মেয়ের শারীরিক গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। আর এ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গত ২০/২৫ দিন আগে জয়পুরহাট শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে সন্তান নষ্ট করে তারা। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটির মা একটি মামলা করতে চাইলে গ্রামের প্রভাবশালীরা তাতে বাধ সাধেন। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী, তার মা ও প্রতিবেশীরা।

ঘটনাটি বেশ কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন জায়গায় জানাজানি হলে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন জয়পুরহাট জেলা শাখা নামে একটি সংগঠন সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে কাজীপাড়া গ্রামে গিয়ে এক প্রকার বন্দি দশা থেকে ওই নারী ও তার মাকে উদ্ধার করে ক্ষেতলাল থানায় নিয়ে আসেন। পরে দুজনকে আসামি করে মেয়েটির মা একটি মামলা দায়ের করেন। তবে এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠায় সংগঠনটির মানবাধিকার কর্মীরা।

এ বিষয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, একটি খবরের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরে কাজীপাড়া গ্রামে গিয়ে অনেকটাই বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে ভুক্তভোগীদের থানায় নিয়ে আসি। পরবর্তীতে তার মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

সংগঠনের সভাপতি নূর ই আলম বলেন, জয়পুরহাটে দিন দিন বেড়েই চলেছে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানীর মতো ঘটনা। এতে আমরা অনেকটাই উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। আমরা চাই এসব ঘটনা খুব দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীরেন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, সোমবার রাতে ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদী হয়ে কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আকামত আলীর ছেলে দুখু মিয়া (৫৫) ও একই গ্রামের আলম দেওয়ানের ছেলে রয়েল হোসেনের (৩০) বিরুদ্ধে একটি এজাহার করেছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদলত সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী- চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত জয়পুরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ নারী-শিশু ধর্ষণ ও ৩৩ নারী-শিশু শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছেন।

 



বাংলাদেশ সময়: ১ঃ৪৩ পি.এম , আগস্ট ২৫, ২০২০



 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর