বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তার ওপর ঘর তুলে গরুগুলোকে রেখে খাবার পৌছে দিচ্ছেন নুর নাহার বেগমবন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তার ওপর ঘর তুলে গরুগুলোকে রেখে খাবার পৌছে দিচ্ছেন নুর নাহার বেগম – দৈনিক গণ আওযাজ
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন

বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তার ওপর ঘর তুলে গরুগুলোকে রেখে খাবার পৌছে দিচ্ছেন নুর নাহার বেগম

গণ আওয়াজ ডেস্ক/১২২বার পড়া হয়েছে
আপডেট :মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তার ওপর ঘর তুলে গরুগুলোকে রেখে কলা গাছের ভেলায় করে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন নুর নাহার বেগম (৩০)। কয়েক বছর আগে পদ্মার করাল গ্রাসে ভিটেবাড়ি, জমি সব হারিয়ে এখন তার পরিবার নিঃস্ব। জমি ভাড়া নিয়ে ঘর তুলে থাকেন পাঁচগাঁও গ্রামের সওদাগার হালদারের বাড়িতে। যেই জমিতে ভাড়া থাকেন এখন সেখানে বুক সমান পানি। তাই নিজের গরু দুটোকে রাস্তার ওপরে ঘর তুলে রেখেছেন। আর পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পাশের মতি সর্দারের বাড়িতে। দিনে ৩ বার কলা গাছের ভেলা চড়ে গাভীগুলোর পরিচর্যা করতে আসেন নুর নাহার।

নুর নাহারের স্বামী মো. আয়নাল হক পেশায় জেলে। সারাদিন পদ্মায় মাছ ধরে ২-৩শ টাকা আয় করেন। তা দিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে কাটে তাদের জীবন। তাই নিজে কিছু রোজগার করে স্বামীকে সহযোগিতার জন্য শুরু করেছেন গরু লালন-পালন। কিন্তু চলতি বছরের বন্যায় বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় গরুগুলোকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে তার পরিবার।

এমন চিত্র শুধু নুর নাহারের না। তার মতো আরও অনেকেই ওই রাস্তার ওপর ঘর তুলে গবাদি পশুগুলোর থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বন্যায় তাদের জীবনে যেন কষ্টের সীমা নেই। মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল বাজারের পদ্মা নদী ঘেঁষে ইট বিছানো এই রাস্তাটি মিলিত হয়েছে উপজেলার গারুরগাঁও বাজারে।

গৃহবধূ নুর নাহার বেগম জানান, যখন গাভিগুলোকে পরিচর্যা করতে আসেন ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে শাশুড়ির কাছে রেখে আসেন। তারপরও চরম উৎকণ্ঠায় থাকেন, বাড়িতে রেখে আসা সন্তানগুলো যেন পানিতে পড়ে না যায়। তাই দ্রুত ফিরে যাওয়ার তাড়াও থাকে তার। যখন গরুগুলোর জন্য বেশি খাবার নিয়ে আসেন তখন খাবারগুলো কলা গাছের ভেলায় তুলে নিজে সাঁতরিয়ে পাড়ি দেন প্রায় আধা কিলোমিটার জায়গা।

নুর নাহার বেগম বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমাদের বাড়িতে বুক সমান পানি। এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য-সহযোগিতার মুখ দেখিনি।

 

 



বাংলাদেশ সময়ঃ ১০ঃ২৯ এ.এম. / ১১ই আগস্ট ২০২০



 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর