উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশের ফুটবল।উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশের ফুটবল। – দৈনিক গণ আওযাজ
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশের ফুটবল।

গণ আওয়াজ ডেস্ক/৩১বার পড়া হয়েছে
আপডেট :বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০

এক দিক থেকে স্লোগান, ‘উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশের ফুটবল।’ আরেক দিকের আওয়াজ ‘ফুটবল শেষ।’ এক পক্ষ বলছে, ‘আগের যেকোন সময়ের চেয়ে এখন ফুটবলের কার্যক্রম বেশি।’ আরেক পক্ষের জবাব, ‘গত ১২ বছরে শেষ হয়ে গেছে দেশের ফুটবল।’ কেউ বলছেন, ‘সভাপতি হিসেবে কাজী মো. সালাউদ্দিনকে আবার দরকার।’ কেউ বলছেন, ‘তাকে সরাতেই হবে। তিনিই ফুটবল ডুবিয়েছেন।’

ফুটবলের উন্নয়ন হয়েছে না ডুবেছে সে বিচার করবে ফুটবলপ্রেমীরা। আমরা বরং একনজর দেখে নেই গত এক যুগ কাদের হাতে ছিল দেশের ফুটবল পরিচালনার দায়িত্ব। ‘ফুটবল শেষ’ বলে যাদের অভিযোগ তাদের কেউ কি ১২ বছরে কখনও বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে থেকে কাজ করেছেন? সেটা মিলিয়ে নেবেন ফুটবল ভালোবাসা সাধারণ মানুষগুলো।

কাজী মো. সালাউদ্দিন এক যুগ ধরে সভাপতি। দলপতি হিসেবে সাফল্য-ব্যর্থতার হিসেবটা তার ওপরই বেশি যাবে। যদিও ফুটবল খেলার মতো ফুটবল পরিচালনাও টিমওয়ার্কের বিষয়। ফুটবল পরিচালনার অধিনায়ক কাজী মো. সালাউদ্দিন হলে সহ-অধিনায়ক এবং অন্যান্য খেলোয়াড় কারা?

২০০৮ সাল থেকে চলমান কমিটি পর্যন্ত ৩৭ জন দেশের ফুটবল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন এবং আছেন। কাজী মো. সালাউদ্দিন ১২ বছর ধরে সভাপতি। তিনি একা নন, আরও ৮ জন আছেন টানা এক যুগ। কাজী সালাউদ্দিনের সহ-অধিনায়ক আরেক তারকা ফুটবলার আবদুস সালাম মুর্শেদী। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে টানা এক যুগ তারও। টানা ১২ বছর ধরে বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে আছেন আরও দুইজন সাবেক তারকা ফুটবলার বাদল রায় ও কাজী নাবিল আহমেদ।

টানা ১২ বছর কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন সাবেক তারকা ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম, সত্যজিৎ দাস রুপু, বর্ষীয়ান সংগঠক হারুনুর রশিদ, ফজলুর রহমান বাবুল ও আমিরুল ইসলাম বাবু।

এই ৯ জনের মধ্যে আবার দুই জনের বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে থাকার রেকর্ডটা লম্বা। কাজী মো. সালাউদ্দিন ২০০৩ সালের কমিটিতে ছিলেন সহ-সভাপতি। পরে তিনি অবশ্য পদত্যাগ করেছিলেন। ২০০৩ সালের কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন আমিরুল ইসলাম বাবু।

কাজী মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে টানা ১২ বছর ধরে যে ৯ জন আছেন, তারা ছাড়া বাকি ২৭ জন কারা যারা বিভিন্ন কমিটিতে ছিলেন এবং আছেন।

প্রথমে আসি কারা দুই মেয়াদ, মানে যারা ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের কথায়। সাবেক ফুটবলার তাবিথ আউয়াল ২০১২ থেকে আছেন সহ-সভাপতি হিসেবে। ২০০৮ সালের কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শওকত আলী খান আছেন ২০১৬ সাল থেকে সদস্য হিসেবে। ২০১২ সাল থেকে সদস্য হিসেবে আছেন সাবেক ফুটবলার ইলিয়াছ হোসেন, ইকবাল হোসেন, বিজন বড়য়া, আরিফ হোসেন মুন।

এর আগে কাজী সালাউদ্দিনের অধীনে ২ মেয়াদে কাজ করেছেন শামসুল হক চৌধুরী ও প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম বাচ্চু। তারা দুইজনই সদস্য হিসেবে ছিলেন ২০০৮ ও ২০১২ সালের কমিটিতে। সহ-সভাপতি হিসেবে এক মেয়াদ কাজী সালাউদিনের সঙ্গে কাজ করেছেন মনজুর হোসেন মালু (২০০৮-১২), আরিফ খান জয় (২০১২-১৬) ও মহিউদ্দিন মহি (২০১৬-চলমান)।

২০০৮-১২ কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন সাবেক ফুটবলার খুরশিদ আলম বাবুল, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, প্রয়াত গোলাম রব্বানী হেলাল, আনোয়ারুল হক হেলাল, আজফার উজ জামান সোহরাব, মো. শফিকুজ্জামান, মাহবুবুর রহমান শাহিন ও আলহাজ মকবুল হোসেন।

২০১২-১৬ কমিটিতে সদস্য ছিলেন শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, আলমগীর খান আলো, তৌফিকুল ইসলাম তোফা ও আজমল আহমেদ তপন। সদস্য হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন মাহিউদ্দিন সেলিম, অমিত খান শুভ্র, আবদুর রহিম, জাকির হোসেন চৌধুরী ও মাহফুজা আক্তার কিরণ।

১২ বছরে যে ৩৬ জন কাজী মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে কাজ করেছেন তারা যেমন সাফল্যের ভাগিদার তেমন ব্যর্থতার জন্যও দায়ী। কারণ গত এক যুগে কাজ করতে না পারা কিংবা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাউকে পদত্যাগ করতে দেখা যায়নি। কে সফল, কে ব্যর্থ সেটা আলাদা না করে একটা উপসংহারেই পৌঁছানো যায়- এখনও যারা ফুটবল মাঠে খেলা দেখতে যায় কষ্টটা তাদেরই আসলে বেশি।

দর্শক আর ফুটবলপ্রেমীদের নেশাটা তো শুধুই খেলা দেখা। দুই দলের জমজমাট লড়াই দেখা। এর বাইরেও অবশ্য তাদের আরেকটা লড়াই দেখতে হয়, সেটা বাফুফেতে ঢোকা আর টিকে থাকার জন্য কিছু মানুষের লড়াই। সে লড়াইয়ে চার বছর পরপর এক পক্ষ জেতে আরেক পক্ষ হারে। আসলে তো হেরে যায় ফুটবল। ২৪ বছর ধরে যে ‘দেশের ফুটবল নিজেই’ গোল খেয়ে আসছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর